World Wolf Day Observed in Durgapur, Focus on Conservation.
বিশ্বজুড়ে পালিত হলো নেকড়ে দিবস। দূষণ, বনভূমি উজাড় ও লাগামহীন নগরায়ণের ফলে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে নেকড়ে ও হায়নার মতো বন্যপ্রাণীর সংখ্যা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হলেও মানুষের অনুপ্রবেশে তাদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে দ্রুত। এই পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই দুর্গাপুর সিটিসেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে আয়োজন করা হয় বিশেষ কর্মশালা ‘নেকড়ে বাঁচাও’।
কর্মশালার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন **উইংস**, বনদপ্তরের সহযোগিতায়। সংগঠনের সদস্যরা জানান, কয়েক দশক আগেও জঙ্গলে ঘেরা দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে সন্ধ্যা নামলেই শোনা যেত নেকড়ে, হায়না ও শিয়ালের ডাক। কিন্তু শিল্পায়ন ও দূষণের কারণে সেই পরিবেশ এখন অতীত। তাদের বক্তব্য, “যদি নেকড়ে হারিয়ে যায়, তবে হারাবে বনের প্রাণও। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে বিলুপ্তির পথে এগোবে মানবসভ্যতাও।”
তবে আশার আলোও আছে। বনদফতরের তরফে জানানো হয়েছে, কাঁকসার মলানদিঘি, বিষ্ণুপুরের জঙ্গল ও ফরিদপুর ব্লকের মাধাইগঞ্জের বনে নেকড়ের প্রজনন বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে ক্যামেরা, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাশাপাশি গ্রামবাসীর মধ্যে সচেতনতা কর্মসূচিও চলছে। উইংসের সদস্যরাও ক্যামেরার মাধ্যমে নেকড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। বনদফতর ও উইংসের যৌথ উদ্যোগে বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে নতুন আশা জাগছে।
বিশেষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের মুখ্য বন সংরক্ষক বিদ্যুৎ সরকার, দুর্গাপুর বন বিভাগের বনাধিকারিক অনুপম খান, বর্ধমান বন বিভাগের ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা, দুর্গাপুর বনাঞ্চলের রেঞ্জার সুদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বনদপ্তরের একাধিক আধিকারিক।

