দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ ময়দানে জেলা তৃণমূলের আয়োজনে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাখিবন্ধন উৎসবের মাধ্যমে আরজি করের নিষ্ঠুর ঘটনার দোষীদের ফাঁসি দাবি করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সাংসদ কীর্তি আজাদ, প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সন মুখোপাধ্যায় সহ জেলা তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এই প্রতিবাদে অংশ নেন। রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর, মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন তৃণমূল কর্মীরা।
মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, "দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও সেগুলি ঢাকার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আরজি করের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রবিবারের মধ্যে ফাঁসির দাবি করেছিলেন, কিন্তু এখন বিরোধীরা কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে নাটক তৈরি করছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, "১৪ আগস্ট রাতে যারা ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমেছিল, তা সবাই দেখেছে। রাম, বাম, নকশালরা জ্বালিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্গাপুরের চতুরঙ্গ ময়দানে যিনি প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন, সেই বিজেপি বিধায়কের ভাইপোর বিরুদ্ধে ধর্ষণ কেসের অভিযোগ রয়েছে। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদের আর এক নাম। খবর পাওয়ার পরই তিনি পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন এবং পুলিশ তা করেছেও। তবে এখন সিবিআই তদন্ত করছে, ১২০ ঘণ্টা পেরিয়েছে, তবু কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা অপরাধীদের ফাঁসি চাই এবং প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে আজ আমাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, "উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সেখানে কোনো প্রতিবাদ নেই। অপরাধীদের ছেড়ে দিচ্ছে বিজেপি সরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ ঘটলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা বরদাস্ত করে না। তিনি অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন।"

