Saturday, 20 Jun 2026

পঞ্চায়েতের মেলাতে অনুপস্থিত রইলেন পঞ্চায়েত প্রধান!

IMG

পঞ্চায়েতের মেলায় ব্রাত্য হয়ে পড়লেন খোদ প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে মেলা দখলের হুমকির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তিনি। বিরোধীদের কটাক্ষ, "নিজেদের দলের মধ্যেই গণতন্ত্র নেই, বাংলায় কীভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে?" তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।  


কাঁকসার মলানদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঢ়েশ্বর শিব মন্দিরের মাকুড়ি সপ্তমীর মেলা পরিচালনা নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চাপা দ্বন্দ্ব চলছিল। অবশেষে মেলার উদ্বোধনের দিনই সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে।  


মঙ্গলবার বিকেলে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মলানদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, প্রশাসক মণ্ডলীর সদস্য দীপঙ্কর লাহা, কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নবকুমার সামন্ত ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে দেখা যায়নি মলানদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পাকুমনি সোরেনকে, যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।  


প্রধান পাকুমনি সোরেনের অভিযোগ, "গত বছর পর্যন্ত মেলা পরিচালনা করত মলানদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েত। এ বছর পঞ্চায়েতে একটি বৈঠকে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য মেলা দখলের হুমকি দিয়েছিলেন। আমি একাধিকবার মেলার পরিচালনা নিয়ে বৈঠক করতে চাইলেও কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। এমনকি বিডিও-র তরফ থেকেও কোনো চিঠি পাইনি। আমি শুনেছি আমন্ত্রণপত্রে আমার নাম রয়েছে, কিন্তু আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি। মেলা তো আমার পঞ্চায়েত এলাকায়, তাহলে কার অনুমতিতে এটি হচ্ছে? মেলায় কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে আমি প্রশাসনকে কী জবাব দেব?"  


পাল্টা বক্তব্য রেখে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, "মলানদিঘী গ্রাম পঞ্চায়েতের কুড়িজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাহলে তারা কীভাবে খবর পেলেন? এখানে ব্যক্তিগতভাবে জানানোর কোনো বিষয় নেই। হুমকির কথাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী, এই ধরনের মেলা পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে পড়ে। তাছাড়া, পঞ্চায়েতের পাশে দাঁড়াতে আমরা সব রকমভাবে সহযোগিতা করছি।"  


এ নিয়ে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মা কটাক্ষ করেন, "প্রধানের পঞ্চায়েত এলাকায় মেলা হচ্ছে, আমন্ত্রণপত্রে প্রধানের নামও রয়েছে, অথচ তাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানায়নি। এ থেকেই বোঝা যায় বাংলার পরিস্থিতি কতটা দুর্বল।"  


তবে বিরোধীদের এই কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, "দলের মধ্যে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠা করা।"

Share: