Saturday, 20 Jun 2026

দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু চা ব্যবসায়ীর

IMG

প্রায় ২৫ বছর ধরে চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন সমীর চক্রবর্তী। কিন্তু ডিএসপি উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার পর, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই দোকান সরানোর চেষ্টা করেন তিনি। ঠিক তখনই একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে তার ওপর, যার ফলে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনা পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর থানার খোলা মার্কেট এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। সমীর চক্রবর্তীর (৪৬) বাড়ি দুর্গাপুর থানার ধোবিঘাটে।


দেওয়ালের চাপা পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সমীরবাবুকে দুর্গাপুরের শোভাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অভিযোগ ওঠে যে, সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়নি। পরে সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর তার পরিবার মৃতদেহ নিয়ে থানায় পৌঁছায়। তাঁর ছেলে বাবলু চক্রবর্তী দাবি করেন, পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে এবং দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষকে উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।


বাবলু জানান, "মঙ্গলবার সকালে বাবা দোকান ভাঙছিলেন। তখনই হঠাৎ করে ইটের দেওয়াল ভেঙে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ভর্তি নেওয়া হয়নি। পরে সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণ পর বাবার মৃত্যু হয়। আমাদের দাবি, পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।  


তৃণমূল নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, "আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। দলের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করছেন, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছেন না। উচ্ছেদ নোটিস পাওয়ার পরই সমীরবাবু আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেও দোকান সরাতে যান, যাতে ইট বা অন্যান্য সামগ্রী কাজে লাগানো যায়। সেই সময়ই পাঁচিল চাপা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আমরা ইস্পাত কারখানার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করছি এবং সমীরবাবুর পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

Share: