On the day of Modi’s visit, a big blow to the BJP: Rupak Panja joins the Trinamool Congress
রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রনাথ মোদীর সফরের দিনেই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় গেরুয়া শিবিরে বড় ভাঙনের ঘটনা ঘটল। বিজেপি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন আসানসোল সাংগঠনিক জেলার প্রভারী প্রধান রূপক পাঁজা। শনিবার দুর্গাপুরে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত থেকে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা গ্রহণ করে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরেই বিজেপির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন রূপক পাঁজা। বিশেষ করে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারির বিরুদ্ধে তিনি একাধিক অভিযোগ তোলেন।
তাঁর দাবি— দলের ভেতরে সুস্থ ও স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ একেবারেই নেই। বিজেপির অন্দরে অগণতান্ত্রিক আচরণ ও নানা ধরনের অসঙ্গতি ক্রমশ বাড়ছে। দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে কয়লা ও বালি চুরির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দলবদলের কারণ জানতে চাইলে রূপক পাঁজা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে যে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, তা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, তা দেখেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রূপক পাঁজাকে দলে স্বাগত জানিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “মানুষ এখন বুঝতে পারছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। রূপকবাবুর মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী আমাদের দলে আসায় জেলায় সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এই পরিবর্তন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে জনসভা করছেন, ঠিক সেই সময়েই জেলা বিজেপির এক গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলত্যাগ গেরুয়া শিবিরের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

