Wednesday, 05 Aug 2026

সোনার দোকানের ম্যানেজারের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য দুর্গাপুরে

IMG

দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারের এক নামী সোনার দোকানের ম্যানেজার লক্ষণ মুখোপাধ্যায়ের (৫৫) মৃতদেহ বৃহস্পতিবার সকালে ভেসে ওঠে বীরভানপুরের দামোদর নদীর বিসর্জন ঘাটে। খবর পেয়ে কোকওভেন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে দামোদর নদ বড়জোড়া থানার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মৃতদেহটি বড়জোড়া থানার পুলিশ উদ্ধার করে এবং বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।  


দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের বি-জোনের তানসেন রোডের বাসিন্দা লক্ষণ বাবু সদাহাস্য ও ভালোমনের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বুধবার বিকেলে বাড়ি থেকে চা খেতে যাচ্ছেন বলে বের হন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজ শুরু করেন এবং স্থানীয় নিউটন ফাঁড়িতে অভিযোগ জানান। পুলিশ তল্লাশি শুরু করে, তবে লক্ষণ বাবুর মোবাইল ফোনটি বাড়িতেই রেখে যাওয়ায় তদন্ত আরও জটিল হয়ে পড়ে।  


বৃহস্পতিবার সকালে দামোদর নদীর বিসর্জন ঘাটে তার দেহ ভেসে ওঠার খবর পাওয়ার পর পরিবার শোকে ভেঙে পড়ে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিনি জলে ডুবে আত্মহত্যা করেছেন, তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে দুর্গাপুর ও বড়জোড়া থানার পুলিশ।  


সূত্রের খবর অনুযায়ী, লক্ষণ বাবু দীর্ঘদিন ধরে ডেইলি লটারির নেশায় আসক্ত ছিলেন। তবে এই আসক্তির কারণেই কি তার মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। মৃতদেহ আপাতত বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগামীকাল ময়নাতদন্ত হবে।  


সোনার দোকানের কর্ণধার চন্দন দাস জানান, **"লক্ষণ বহু বছর ধরে আমার দোকানের বিশ্বস্ত কর্মী ছিলেন এবং আমাদের পারিবারিক সম্পর্কও ছিল। তার মৃত্যু আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশের কাছে অনুরোধ, দ্রুত তদন্ত করে তার মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ করা হোক।"


এখনো পর্যন্ত পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ময়নাতদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Share: