দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার নিখোঁজ থাকা আধিকারিকের মৃতদেহ ১৬ ঘণ্টা পর কারখানার ভেতরে লিফটের নিচে থেকে উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত আধিকারিকের নাম সমিত ভট্টাচার্য বয়স ৫৪ বছর। তিনি সিটি সেন্টারের সেইল কো-অপারেটিভ বাঘাযতীন এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার অন্যান্য দিনের মতোই সমিতবাবু দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় কাজে গিয়েছিলেন। সকাল ১১টার পর তিনি আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর গাড়ি, ব্যাগ, টিফিন সব যথাস্থানে ছিল। নিখোঁজের অভিযোগ জানানো হয় দুর্গাপুর থানায়। পুলিশ কুকুর নিয়ে কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করে। গভীর রাতে প্রায় ৩টা নাগাদ কারখানার জংশন বাংকারের লিফটের নিচে সমিতবাবুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন কারখানার কর্মীরা। খবর দেওয়া হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে। দেহ উদ্ধার করে দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতাল (মেইন হাসপাতাল)-এ নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার তদন্তে আসেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ আধিকারিকরা। আত্মহত্যা, খুন না কি অন্য কোনো রহস্য? দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় ইস্পাত কারখানার সমস্ত শ্রমিক সংগঠনগুলি একযোগে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ওই আধিকারিকের দেহ কীভাবে লিফটের নিচে এল, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান, “আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই সমস্ত বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে।
এবিষয়ে আইএনটিউসি নেতা দেবেশ চক্রবর্তী জানান, স্বভাবতই মৃত্যু নিয়ে চঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের বাতাবরণ। বারবার এই লিফ্টটি নিয়ে আধিকারিকদের জানানো হয়েছিল। এই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিএমএস নেতা মানস চ্যাটার্জি জানান, যে লিফ্টের তলা থেকে আধিকারিকের দেহ উদ্ধার হয়েছে সেই লিফ্ট নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্তও তার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি। এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।

