বীরভূমের বিস্তীর্ণ খনি অঞ্চল এবং লক্ষ লক্ষ বাসিন্দার জন্য অজয়ের পাড়ে এবার তৈরি হতে চলেছে বৈদ্যুতিক চুল্লি। উদ্যোক্তা দে গ্রুপের ডিরেক্টর সন্দীপ দে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই এই চুল্লি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে।
এই মহৎ উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় অজয়ের চরে মৃতদেহ দাহ করতে গিয়ে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হত পাণ্ডবেশ্বরসহ খনি অঞ্চলের মানুষকে, এবার সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চলেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই বৈদ্যুতিক চুল্লির কাজের সূচনা করেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দুর্গাপুরের শিল্পপতি সন্দীপ দে বহুদিন ধরেই মানুষের এই সমস্যার কথা শুনে বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন। অবশেষে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সেই কাজ শুরু হয়েছে। সন্দীপ দে জানিয়েছেন, "এই বৈদ্যুতিক চুল্লি আমার বাবার স্মৃতিতে তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের কাছে আবেদন করা হয়েছে।"
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, "দুর্গাপুরের বীরভানপুরে একটি মাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লি ছিল, যার উপর নির্ভর করতে হত গোটা এলাকার মানুষকে। এই নতুন চুল্লি চালু হলে অনেক মানুষের উপকার হবে। সরকারের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়, তাই এই ধরনের ব্যক্তি উদ্যোগকে আমরা কুর্নিশ জানাই।"
তিনি আরও জানান, এই চুল্লিটির দেখভালের দায়িত্ব পাণ্ডবেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতি নেবে এবং তারাই লোক নিয়োগ করবে। উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছর ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই এই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালু হয়ে যাবে।

