Saturday, 20 Jun 2026

অন্ডাল বিমাননগরীর পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে বৈঠক

IMG

দুর্গাপুরের অন্ডাল বিমাননগরী, যা দেশের একমাত্র বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিমান নগরী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প। তবে, এখানে বিনিয়োগকারীরা পরিকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তারা বারবার অভিযোগ জানাচ্ছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।


বাম সরকারের শেষের দিকে অন্ডালে দেশের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে বিমান নগরী গড়ে তোলার জন্য ১১টি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যদিও কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, তবে মোটের উপর জমি অধিগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিমান নগরীর নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যায়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে অন্ডাল থেকে কলকাতায় পবন হংস হেলিকপ্টার পরিষেবা শুরু হয়। এই বিমান নগরীতে বিমানবন্দর, বেসরকারি শিল্প সংস্থা, আইটি পার্ক, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হোটেল, রেঁস্তোরা, আবাসন প্রকল্প এবং শপিং মল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। 


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর নামকরণ করা হয়। এখনো পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোগে কিছু স্কুল, আবাসন প্রকল্প এবং শিল্প সংস্থা কাজ শুরু করেছে, কিন্তু পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ অন্ডাল বিমান নগরী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের। বিশেষ করে, গত বর্ষার সময়ে বিমান নগরী পানিতে ডুবে যায় এবং নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে। বিমান নগরীর বিভিন্ন রাস্তা এখনও ঠিকভাবে তৈরি হয়নি, যার কারণে বিনিয়োগকারীরা সমস্যায় পড়ছেন। 


এসব সমস্যার সমাধানে সোমবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একটি বেসরকারি হোটেলে অন্ডাল বিমান নগরী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন সাংসদ কীর্তি আজাদ। বৈঠকে সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি সঞ্জয় পাল জানান, “সাংসদ কীর্তি আজাদ এর সাথে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি আমাদের সমস্যার সমাধান করতে রাজ্যের মুখ্য সচিবের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন।” 


বৈঠক শেষে সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, “এই বর্ষায় দেশের অনেক বিমানবন্দর ডুবে গিয়েছিল, তবে অন্ডাল বিমানবন্দর একমাত্র বিমানবন্দর ছিল যা ডুবে যায়নি। সমস্যা আছে, তবে সমাধান করতে হবে। আমি এই বিষয়ে যথাযথ স্থানে কথা বলব এবং দ্রুত সমাধান করব।” 


অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, আসাম এবং ভুবনেশ্বরে বিমান চলাচল করছে। এখানে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের শিল্প এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়তে জমি কিনেছেন। কাজ শুরু হয়েছে, তবে তারা আরও উন্নত পরিকাঠামোর দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিনিয়োগ বাড়ানো, তাই পরিকাঠামোগত ত্রুটি দ্রুত মেটানো উচিত, এমনটাই বলছেন বিনিয়োগকারীরা।

Share: