Long queue in Durgapur to collect gas cylinders
দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় অবস্থিত এইচএফসিআই কেন্দ্রে সোমবার সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির ছবি সামনে আসে। এইচপি গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু গ্রাহককে। কেউ সকাল সাতটা থেকে, আবার কেউ সকাল আটটা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন গ্যাস পাওয়ার আশায়।
মূলত বুকিং সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই সাধারণ মানুষকে এমন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দিন যত এগোচ্ছে, গ্রাহকদের অসন্তোষও ততই বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, একটি সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যদিও পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস মন্ত্রকের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, দেশে জ্বালানি গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে যদি পর্যাপ্ত গ্যাস থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষকে কেন এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে—এই প্রশ্নই তুলছেন অনেকেই। বুকিং প্রক্রিয়ায় কেন এত সমস্যা হচ্ছে এবং কেন মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা সহজে পাওয়া উচিত। যদি সেই পরিষেবা পেতে গিয়ে মানুষের এত ভোগান্তি হয়, তবে তার জবাবদিহি থাকা দরকার।
এদিকে গ্যাস নিতে এসে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহু গ্রাহক। প্রছন্ন দাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, “গ্যাস নিতে যেন যুদ্ধ করতে হচ্ছে। বিশাল লাইন, চরম ভোগান্তি।” অন্য এক গ্রাহক সুরেশ সাউ জানান, “সকাল থেকেই ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু ভর্তি সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারব কি না, সেটাও জানি না। তবুও এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে গ্যাস বুকিং এবং সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যার জেরে দুর্গাপুরের মুচিপাড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক যাতে ভবিষ্যতে আর এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।

