Saturday, 20 Jun 2026

আসানসোলের চন্দ্রচূড় মন্দিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম

IMG

Huge Gathering of Devotees at Chandrachur Temple in Asansol

শ্রাবণ সোমবারে ভক্তের ঢল আসানসোলের প্রাচীন চন্দ্রচূড় শিবমন্দিরে। শ্রাবণ মাসের বাংলার দ্বিতীয় ও হিন্দির তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত ঐতিহাসিক চন্দ্রচূড় শিবমন্দিরে দেখা গেল ভক্তের ঢল। এই দিনে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার শিবভক্ত আসেন ‘বাবা চন্দ্রচূড়’-এর মাথায় গঙ্গাজল ঢালতে ও পুজো অর্চনা করতে।

শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে শিবের প্রতি ভক্তি নিবেদনের এক বিশেষ সময়। পুরাণ অনুযায়ী, এই মাসেই সমুদ্রমন্থনের সময় মহাদেব কালকূট বিষ পান করেছিলেন এবং সেই তীব্র বিষের প্রভাবে তাঁর শরীর শান্ত রাখতে ভক্তরা তাঁর মাথায় গঙ্গাজল ঢালেন। প্রশ্ন উঠতে পারে, যেখানে শিবের জটায় স্বয়ং গঙ্গার অবস্থান, সেখানে গঙ্গাজল ঢালার দরকার কী? এই বিষয়ে বিশ্বাস হলো—ভক্তের হাতের ছোঁয়া ও শ্রদ্ধা-ভরা নিবেদনই শিবের পরম প্রাপ্তি। ভক্তদের হাতে অর্পিত গঙ্গাজলের সঙ্গে যে হৃদয়ের টান থাকে, সেটিই তাঁকে তৃপ্ত করে।

শুধু এই শ্রাবণ মাসেই নয়, সারা বছরই এই প্রাচীন মন্দিরে শিবভক্তদের ভিড় লেগে থাকে। প্রায় ৩৫০ বছর পুরোনো এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি কিংবদন্তি। কথিত আছে, এক কৃষক মাঠে হাল চাষ করার সময় মাটির নিচ থেকে শিবলিঙ্গ আবিষ্কার করেন। এরপর সেটিকে প্রতিষ্ঠা করে নির্মিত হয় এই মন্দির, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি রাজ্যের অন্যতম পরিচিত শিবমন্দিরগুলোর মধ্যে একটি। এখানে শিবকে ‘বাবা চন্দ্রচূড়’ রূপে পূজা করা হয়।

ভক্তদের বিশ্বাস, বাবা চন্দ্রচূড় সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন। তাই শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার তাঁরা গঙ্গাজল, বেলপাতা ও ভক্তিভরে নিবেদন করে শান্তি ও আশীর্বাদ লাভ করেন।

শ্রাবণ উপলক্ষে মন্দির চত্বরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও পৌর নিগমের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষও পূজার্থীদের জন্য পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা ও শৃঙ্খলার ব্যবস্থা করেছে। পরম করুণাময় মহাদেবের আশীর্বাদে যেন ভক্তদের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নেমে আসে—এই কামনাই সকলের।

Share: