Saturday, 20 Jun 2026

কোভিডের পর এবার HMPV! বছরের শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে নয়া ভাইরাস!

IMG

বছরের শুরুতেই নতুন আতঙ্কের নাম – HMPV ভাইরাস। ইতিমধ্যেই কর্নাটকে তিনজন শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চীনের পর এবার ভারতে এই ভাইরাস ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। 


চিকিৎসকদের মতে, ১১ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। কর্নাটকের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, শিশুগুলি ভাইরাসের কোন স্ট্রেনে আক্রান্ত হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। চীনে এই ভাইরাসের কোন স্ট্রেন ছড়িয়েছে তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে শীঘ্রই এ বিষয়ে জানানো হবে বলে খবর।


চীনের হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভিড় এবং উপচে পড়া বেড নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একাধিক ভাইরাল ভিডিও দেখে কোভিড অতিমারীর স্মৃতি ফিরে আসছে। যদিও এই ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। 


ভারতেও HMPV ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। চীনের পরিস্থিতি আপাতত অতটা উদ্বেগজনক নয়। পাশাপাশি, এই বিষয়ে হু-এর কাছ থেকে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার বাড়েনি। দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 


দিল্লির স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই একটি অ্যাডভাইসরি জারি করেছে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন দেখা দিলে রোগীর রক্ত ও লালারসের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামাইন, ব্রঙ্কোডাইলেটরস এবং কাফ সিরাপের পর্যাপ্ত স্টক রাখার পাশাপাশি অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন HMPV আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


**শিশুদের সুরক্ষিত রাখার উপায়:**  

এই ভাইরাস কোভিডের মতো প্রাণঘাতী নয়, তবে শিশু ও বয়স্কদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।  

১. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার আগে বা কোনও খাবার খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  

২. বাইরে থেকে এসে পোশাক বদলে হাত-মুখ সাবান দিয়ে ধুয়ে তবেই শিশুর কাছে যান।  

৩. যেসব শিশু অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যায় ভোগে, তাদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।  

৪. ভাইরাস ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই হাঁচি-কাশি থেকে দূরে থাকতে হবে।  


চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাস নতুন নয়। এটি প্রায় এক হাজার বছর পুরনো এবং বহু মানুষ আগেও এতে আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েক মাস আগে কলকাতায় এক শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল, তবে বর্তমানে সে সুস্থ। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকুন।

Share: