পশ্চিম বর্ধমান: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় JUI-এর উদ্যোগে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হল অষ্টম কর্মসূচি তথা বর্ণাঢ্য প্রীতি সম্মেলন। এই সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
স্বাগত ভাষণে রাজ্য সমন্বয়ক শ্রী মিশ্র উপস্থিত সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই প্রবল বিরোধিতা ও নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও JUI পশ্চিম বর্ধমান সফলভাবে আটটি কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।
এর মধ্যে আসানসোল ও দুর্গাপুরে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক বৈঠক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি বিশেষভাবে ভগবান দাস গুপ্তের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং মূল্যবান অবদানের প্রশংসা করেন। প্রীতি সম্মেলনকে সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে তাঁর ভূমিকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার নতুন কমিটি গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
আসানসোল ও দুর্গাপুর এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সামনে রেখে অমৃতা দাস, আশা দাস, অমৃত সিং এবং নন্দদুলাল মণ্ডলকে সহ-সভাপতি, সম্পাদক-সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
অন্যদিকে, পুরুলিয়া কমিটির জন্য রহমান, রামচন্দ্র প্রসাদ এবং দীপক প্রসাদকে সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের মতো বিভিন্ন দায়িত্বে নির্বাচিত করা হয়।
এছাড়াও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে শ্রী সঞ্জীবনকে যুগ্ম সম্পাদক, শ্রী রামচন্দ্র প্রসাদকে সংগঠন সম্পাদক এবং শ্রী রহমানকে জেলা সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় সম্পাদক অচিন্ত্য বাবু পশ্চিম বর্ধমানে JUI-এর বিভিন্ন কর্মসূচির অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।
তিনি জানান, দুর্গাপুর স্টিল অথরিটির কাছ থেকে JUI-এর কার্যালয় স্থাপনের জন্য জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে তিনি প্রচেষ্টা চালাবেন।
পাশাপাশি সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আগামী দিনেও নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সংগঠনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আসানসোল ও দুর্গাপুরের জন্য একটি সাংস্কৃতিক কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটির সদস্য হিসেবে অমৃতা দাস, গার্গী দাস, শুভদীপ চৌধুরী, সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়, রহমান এবং দীপক প্রসাদকে মনোনীত করা হয়।
নতুন এই কমিটির মাধ্যমে আগামী দিনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রীতি সম্মেলন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
যুগ্ম সম্পাদক-২ শ্রী সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়, Drutgami-র রিপোর্টার শুভদীপ চৌধুরী এবং Drutgami News Channel-এর রিপোর্টার গার্গী দাস তাঁদের মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত সদস্যদের মুগ্ধ করেন।
তাঁদের সঙ্গীত পরিবেশনা এবং জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্মেলনে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। উপস্থিত সদস্যরা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন এবং শিল্পীদের পরিবেশনায় গভীরভাবে মুগ্ধ হন।
সভাপতি স্মিতা ম্যাডাম পশ্চিম বর্ধমানে JUI-এর বিভিন্ন কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য সংগঠনের সকল সদস্যের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশেষভাবে তিনি ভগবান দাস গুপ্তের কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং প্রীতি সম্মেলনকে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, সংগঠনের সাফল্যের পিছনে প্রত্যেক সদস্যের নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকের শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আসানসোলে পরবর্তী সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ওই বৈঠকেই আসানসোলে বৃহৎ আকারে একটি কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং সদস্যদের কল্যাণের বার্তা দিয়ে সফলভাবে শেষ হয় JUI-এর অষ্টম কর্মসূচি তথা প্রীতি সম্মেলন।
পশ্চিম বর্ধমানে সংগঠনের আগামী দিনের পথচলায় এই সম্মেলনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

