বর্ণাঢ্য সুবর্ণ জয়ন্তী পালন দুর্গাপুরের ডিএভি মডেল স্কুলে

IMG

A colorful Golden Jubilee celebration at Durgapur’s DAV Model School.

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ইস্পাত নগরীর জে. এম. সেনগুপ্ত রোডে অবস্থিত ডিএভি মডেল স্কুল, দুর্গাপুর আজ অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে তাদের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উদযাপন করল। আজ থেকে প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে, ১৯৭৫ সালে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ, তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৩০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে এই বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের স্রোতে আজ সেই বিদ্যালয়ই রূপ নিয়েছে এক সর্বভারতীয় ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যেখানে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পাঠরত।

সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে গত কয়েকদিন ধরেই ইস্পাত নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট নতুন সাজে সেজে ওঠে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে দেখা যায় বিশাল ব্যানার, পোস্টার ও সুসজ্জিত ওয়েলকাম গেট। রাস্তায় রাস্তায় রঙিন আলপনা ও রেখাচিত্রে ফুটে ওঠে ডিএভি মডেল স্কুলের স্বর্ণময় ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

গতকাল সন্ধ্যায় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিশাল অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় উপস্থিত ছিলেন ডিএভি স্কুল ও কলেজের প্রাণপুরুষ পদ্মশ্রী পূর্ণম সুরি মহাশয়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মণি সুরি এবং নিশা পেসিন। একই সঙ্গে সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

শনিবার সকালে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের সূচনা হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। স্থানীয় এ.এস.পি. স্টেডিয়াম সংলগ্ন রোটারি থেকে ডিএভি মডেল স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। রাজকীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় সুবর্ণ জয়ন্তীর স্বর্ণময় সকাল।

এরপর ডিএভি মডেল স্কুলের নিজস্ব প্রেক্ষাগৃহে ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীতে বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রছাত্রীরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী বালুচরী শাড়ি ও তার ইতিহাস, ডোগরা শিল্প, পোড়ামাটির হস্তশিল্পসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন। সাহিত্য ক্ষেত্রে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের এক বিশাল সম্ভারও প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি বাংলার শিল্প ও কল-কারখানা বিষয়ক বিভিন্ন মডেল ও উপস্থাপনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা আগত অতিথিদের মুগ্ধ করেন।

এক কথায়, সেদিন ডিএভি মডেল স্কুলের প্রেক্ষাগৃহ পরিণত হয় বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মিলনক্ষেত্রে।

সুবর্ণ জয়ন্তীর এই পবিত্র দিনে ডিএভি স্কুল প্রাঙ্গণে প্রায় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশিষ্টজন সম্মিলিতভাবে ২৫১ কুণ্ডের মহাযজ্ঞ বা হবন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা স্নাত হয় এক পবিত্র ও মন্ত্রমুগ্ধ পরিবেশে। আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য সোনালী আভা, যা সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।

Share: